আমি যদি রাসূল ﷺ-এর সময় থাকতাম— এক আবেগঘন ভুল!

ইশ! যদি আমি রাসূল ﷺ-এর সময় থাকতাম…” — এক আবেগঘন ভুল!


📜 একদিন আমরা সাহাবি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাযি.)-এর পাশে বসে ছিলাম। এক ব্যক্তি এসে আবেগে বলে উঠল,

“ধন্য আপনি! রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে চোখে দেখেছেন। ইশ! আমরা যদি তখন থাকতাম, তাঁর পাশে থাকতাম!”

এই কথায় মিকদাদ (রাঃ) অসন্তুষ্ট হলেন। আশ্চর্য! লোকটা তো ভালো কথাই বলেছে—তবুও অসন্তুষ্ট?

⚡ তখন তিনি বললেন:

“তুমি এমন কিছুর কামনা করছো, যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেননি। তুমি কী নিশ্চিত যে, যদি তখন থাকতে, সত্যিই ঈমান আনতে?

অনেকে রাসূল ﷺ-কে দেখেছে, কিন্তু তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে জাহান্নামের বাসিন্দা হয়েছে!”


তিনি আরও বললেন:

“তোমরা কি আল্লাহর শুকরিয়া করো না? তিনি তোমাদের এমন যুগে সৃষ্টি করেছেন, যখন তোমরা তাঁর রাসূল ﷺ-কে না দেখেও, শুধু তাঁর বাণীর উপর ঈমান এনেছো, তাঁকে মেনে নিয়েছো।”

🌪️ তখনকার যুগ ছিল ভয়ংকর জাহিলিয়াতের—পিতা ঈমান আনছে, পুত্র কাফের রয়ে যাচ্ছে। ভাই মুসলিম, আরেক ভাই জাহান্নামের পথে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহাবারা ঈমান এনেছে—এটা ছিল কেবল সৌভাগ্য না, ছিল ভয়ংকর কঠিন এক সিদ্ধান্ত।


🧠 তাহলে শিক্ষা কী?

🔹 শুধু আবেগে “ইশ, আমি যদি সেই সময় থাকতাম!” বললে হবে না।

🔹 বরং এখনকার যুগে, ফিতনার দুনিয়ায়, TikTok আর Netflix-এর ফাঁদে থেকেও যদি তুমি হক আঁকড়ে ধরো—তুমি সাহাবিদের মতোই একজন মুজাহিদ।

📖 কুরআনের ভাষায়ই আমরা দোয়া করি:

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ

“হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের চোখের শীতলতা করে দাও।”

📌 (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)


❤️ তাই বলি ভাই,

সাহাবিদের মতো সাহসী হতে চাও?

তাহলে এখনকার ফিতনার মাঝেই ঈমানদার হও।

এই যুগে ঈমান ধরে রাখা মানে—তপ্ত আগুনের উপর মুঠি চেপে ধরা।

কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.