মানুষ!! কিসে তোমাকে বিভ্রান্ত করলো?

মানুষ!! কিসে তোমাকে বিভ্রান্ত করলো

এমন এক সময় আসবে যখন তীব্র কম্পনের সাথে জিজ্ঞেস করা হবে- হে মানুষ!! কিসে তোমাকে বিভ্রান্ত করলো? কিসে, কিসে তোমাকে প্রতারিত করলো তোমার মহানুভব পালনকর্তা সম্পর্কে?? (یٰۤاَیُّهَا الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ) [৮২:৬]  

যখন বলা হয় কিসে প্রতারিত করলো? 'গাররাকা' অতীত কাল। ‘গাররা' ‘নাসারা’-র মত অতীত কাল। এরকম অতীত কালীন ক্রিয়া দ্বারা বুঝানো হচ্ছে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু, এই মুহূর্তে আমরা তো বিচার দিবসে দাঁড়িয়ে এটি পড়ছি না। আমরা তো এটা এখন দুনিয়াতে থেকেই পড়ছি। সুতরাং, আল্লাহ আমাদেরকে ভবিষ্যতের একটি চিত্র দেখাচ্ছেন। যা কিয়ামতের দিন ঘটবে। কিন্তু, এখনি এই মুহূর্তে তিনি আমাদেরকে এটা জানার সুযোগ করে দিয়েছেন।

সুতরাং, বর্তমানে যদি ভবিষ্যতের কোনো চিত্র দেখতে পান যে, এমন একটি দিন আসবে যেদিন আমি উপলব্ধি করবো কোনটাকে আমার বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার ছিল। কিন্তু আমি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। এরপর আমাকে বলা হবে- কোন জিনিস তোমাকে প্রতারিত করলো তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে?

সাথে সাথে আমার হুঁশ হবে এবং উপলব্ধি করবো যে, কিয়ামত তো এখনো সংঘটিত হয়নি। আমি এখনো এই দুনিয়াতে আছি। এই মুহূর্তে আমার অবস্থান এখানে, শেষ বিচারের ময়দানে নয়।

জানেন, তাহলে এখন প্রশ্নটির অর্থ কী? এখন প্রশ্নটির অর্থ হলো- নিজেকে প্রতারিত করার জন্য কোন কোন জিনিসগুলোকে আমি বার বার সুযোগ দিয়েছি, সুদূর অতীত থেকে আজ পর্যন্ত?

তা কি ছিল নিজের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মানুষ? নিজের কামনা-বাসনা? নিজের লোভ-লালসা? নিজের স্বার্থপরতা? নিজেকে প্রবোধ দেওয়া মিথ্যাগুলো? কী ছিল সেটা নিজের ভেতরে? সেটা কি ছিল নিজের ভেতরের কোনো ঘোর তমসা? কী ছিল সেটা যা আমাকে দূরে বহুদূরে প্রতারিত করে নিয়ে গেল? যাইহোক, একে আর সুযোগ দেওয়া যাবে না। নিজেকে পরিবর্তন করার সময় এসে গেছে। আমি এই আয়াতটি শুনেছি। আমার অগ্রাধিকার পাওয়া বিষয়গুলোতে আমি পরিবর্তন আনব।

এই ধরণের আয়াতগুলো আমার আপনার জন্য জীবন পরিবর্তনকারী আয়াত। যা-ই ঘটুক কোনো ব্যাপার না। নিজেকে পরিবর্তন করার এই ভ্রমণটা যত কষ্টকরই হোক না কেন, আমি প্রস্তুত, ইয়া রব! কারণ, আমার সমগ্র জীবন ধরে আপনি আমার প্রতি যথেষ্ট কারিম (দানশীল, উদার) ছিলেন। আমি এর জন্য প্রস্তুত, কারণ, আমি চাই এই উপলব্ধিটা আমার এখন হোক, শেষ বিচারের দিনে হওয়ার পরিবর্তে। আমি বরং এই উপলব্ধিটা এখন চাই। আমি পরোয়া করি না, এতে যদি আমাকে কাঁদতে হয় বা অন্য কাউকে কাঁদতে হয়। আমি পরোয়া করি না, এটা যদি আমাকে অসন্তুষ্ট করে বা অন্য কাউকে করে। আমি পরোয়া করি না এতে যদি আমাকে বিভিন্ন জিনিস ছাড়তে হয় বা অন্য কাউকে ছাড়তে হয়।

যদি এটা মদ পানের আসক্তি হয়, আমি আজকেই ছেড়ে দিবো। আমি পরোয়া করি না এতে যত কষ্টই হউক। এটা যদি নামাজ মিস হয়, আমি এখন থেকে নিয়মিত নামাজ পড়বো। আমি পরোয়া করি না এর জন্য যদি আমাকে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে হয়, আমি যাব। আমি নিজেকে পরিবর্তন করবো। যদি হারাম কিছু আমি অনেক দিন যাবত করে আসছি, আমি এই হারাম ছেড়ে দিবো। আমি পরোয়া করি না এতে কে ক্রুদ্ধ হলো আর কে অসন্তুষ্ট হলো। এটা যদি হারাম ব্যবসা হয়ে থাকে আমি ঐ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছি। আমি পরোয়া করি না যদি টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। আমি পরোয়া করি না। আমি যা নিয়ে পরোয়া করি তা হলো এই শেষ বিচারের দিন। এর নাম অগ্রাধিকার প্রদান, ঠিক না?

আর যখন এভাবে প্রায়োরিটিতে পরিবর্তন নিয়ে আসবেন, আল্লাহর ব্যাপারগুলোকে অগ্রাধিকার দিবেন, তখন দেখবেন আপনার নিজস্ব সত্তা এবং আশেপাশের মানুষেরা এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা এভাবে বলবে:

- আরে! কী হয়েছে তোমার? তুমি কি আর গুরুত্ব দিবে না অমুক অমুক ব্যাপারগুলোকে?

- না। আমি দিবো না। কারণ, অন্য একটি বিষয়কে আমি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি ঐটাকে মুকাদ্দাম বানিয়েছি। আর অন্যসবকিছুকে মুআখখার। ঐটাকে আমি সবার আগে রাখবো আর অন্যসবকিছুকে পরে। "আলিমাত মাফসুন মা কাদ্দামাত ওয়া আখখারাত- সেদিন তারা জানবে কোন কোন জিনিসগুলোকে তারা সামনে রাখেছিল আর কোন কোন জিনিসগুলোকে পেছনে।"

আমার এবং আপনার বরং এমন মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত যারা এখনি নিজেদের প্রায়োরিটি ঠিক করে নেয়। এখনি। নিজের মাঝে সেই মনোবল তৈরি করুন। আল্লাহর বাণীতে সেই শক্তি খুঁজুন। এ জন্যই তো আল্লাহর বাণী আমাদের সামনে আছে।

আমি আমার নিজেকে এবং আপনাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আমাদের আমলের দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। অতীতে যে ভুল-ই করে থাকেন না কেন, যে পাপ-ই করে থাকেন না কেন, যে ভুল-ই আমি করে থাকি না কেন, তাওবার দরজা এখনো খোলা আছে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।

শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমার দুআ করেই থেমে যাবেন না বরং নিজের মাঝে সত্যিকারের পরিবর্তন নিয়ে আসুন। একটি বাস্তব পরিবর্তন। আল্লাহকে দেখান এবং নিজেকে দেখান যে, কোন কোন ব্যাপারগুলোকে আপনি সবার আগে গুরুত্ব প্রদান করেন। অন্য কারো নিকট আপনাকে কিছু প্রমাণ করতে হবে না। যে কেউ আপনাকে যাই বলুক না কেন, আশেপাশের লোকজন আপনাকে যেভাবেই দেখুক না কেন, এতে কিছু যায় আসে না। সময় আসলে তারা আপনার ব্যাপারে কোনো পরোয়া করবে না।

কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.