আসুন শিষ্টাচার শিখি!!

আসুন শিষ্টাচার শিখি!!

আসুন শিষ্টাচার শিখি
মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সৌজন্যপ্রবণ। এ সৌজন্যের একটি অংশ হলো সমাদর করা, তারিফ করা। একজন ভদ্র মানুষ সুন্দর কিছু দেখলে তার কদর করে। একজন শিষ্টাচারী মানুষ বিমান থেকে চমৎকার কোনো দৃশ্য দেখে বলে উঠে—ওয়াও! দৃশ্যটা খুবই সুন্দর। একজন শিষ্টাচারী মানুষ সুন্দর কোনো চিত্র, সুন্দর কোনো গাড়ি, সুন্দর কোনো বাড়ি, সুন্দর যে কোনো কিছু দেখলে বলে উঠে— হ্যাঁ, এটা খুব সুন্দর। তারা এগুলোর সমাদর করে। (মুখে না বললেও মনে মনে কদর করে।)
কিন্তু, খুবই খুবই বিকৃত মস্তিষ্কের কেউ যত সুন্দর কিছুই দেখুক না কেন, সে জানে এটা সুন্দর, তারপরেও সে সমাদরকারীদের কাঁতারে নিজেকে নামাতে চায় না। মুখ বাঁকা করে বলবে— "হুঁহ, আমার এতে কিছু যায় আসে না।" কিন্তু একজন শিষ্টাচারী মানুষ এমনটা করবে না। শিষ্টাচারী মানুষ এর প্রশংসা করবে, কদর করবে। এটা হলো একটা দিক।
শিষ্টাচারের দ্বিতীয় যে দিকটির উপর আমি ফোকাস করতে চাই তা হলো— কেউ যদি আপনার কোনো উপকার করে তাহলে শিষ্টাচারের দাবী হলো অন্তত এর জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। এটা ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। কোথাও যাচ্ছেন পথিমধ্যে গাড়ির চাকা নষ্ট হয়ে গেল। এখন, কেউ যদি এগিয়ে এসে চাকা লাগাতে সাহায্য করে তাহলে তাকে অন্তত বলুন— ধন্যবাদ ভাই।
তাহলে একজন শিষ্টাচারী মানুষ তারিফ করে এবং ধন্যবাদ জানায়। এই দুইটি জিনিস একজন ভদ্র মানুষের ভেতরে সেট করে দেওয়া হয়েছে। কারো যদি ধন্যবাদ জানানোর বা প্রশংসা করার সামর্থ্য না থাকে তাহলে তাকে আর যাই বলা যাক ভদ্র মানুষ বলা যায় না।
সৌজন্যতার বা ভদ্রতার কুরআনিক টার্ম হল ফিতরাহ। আল্লাহ আগে থেকেই আমাদের ভেতরে এই ভদ্রতার বৈশিষ্ট্য স্থাপন করে দিয়েছেন। সূরা ফাতিহার প্রথম শব্দ হলো—আলহামদুলিল্লাহ। প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য।
একজন ভদ্র মানুষ চিন্তা করে কথা বলে। "যদি আমার স্ত্রী সুন্দর কোনো কারুকাজ/চিত্রকর্ম আমার সামনে এনে উপস্থাপন করে আমি তার প্রশংসা করি। আমার বাবা যখন পড়ার খরচ প্রদান করেন আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার বাবার জন্য আমি কাকে ধন্যবাদ জানাবো? আমার দাদাকে। আমার দাদার জন্য কাকে?" এভাবে সে গভীরভাবে চিন্তা করে। সে ভাবে— এর শুরু কোথায়? আমি এই চিত্রকর্মের প্রশংসা করতে পারি। এই চিত্রকর্ম হলো একটি পর্বতের। কিন্তু পর্বতের জন্য আমি কার প্রশংসা করবো? আসল পর্বত দেখেই তো এই ছবি আঁকা হয়েছে। তাই না? কিভাবে আমি এর জন্য প্রশংসা করবো?
এভাবে সে প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে গভীর ভাবনায় ডুবে যায়। শেষে একমাত্র যে উপসংহারে সে পৌঁছে তা হল, কেউ একজন এরজন্য প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। চারপাশে নিদর্শনের সংখ্যা অগণিত।
প্রসঙ্গত, যে শিষ্টাচার হারিয়ে ফেলেছে সে কি কাউকে প্রশংসা করার জন্য খুঁজছে? না। সে কখনো গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ দেখবে না। সে সবসয় দেখবে গ্লাস অর্ধেক খালি। তাই সে বিশাল পর্বত দেখে বলবে— "হ্যাঁ, সুন্দর পর্বত। কিন্তু বরফ প্রাণঘাতী। আকাশ অসাধারণ কিন্তু মেঘ দিয়ে ঢাকা।" সে সবকিছুতেই সমস্যা দেখতে পাবে। সে কোনো কিছুর তারিফ করতে পারবে না। জানেন? এই ধরণের মানুষদের সাথে থাকতে কারোই ভালো লাগে না। এটা ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়, তাই আমি এই কথা বলতে কোন পরোয়া করি না। এই ধরণের মানুষদের আশে পাশেও কেউ থাকতে চায় না। কারণ, মনে হয় যেন তারা জীবন উপভোগ করার সকল ইচ্ছে হারিয়ে ফেলেছে।
একজন চিন্তাশীল ব্যক্তির সহজাত সিদ্ধান্ত হল, সমস্ত কিছুর জন্য আল্লাহ প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।
— নোমান আলী খান
[রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আল্লাহর তুলনায় আত্মপ্রশংসা বেশি পছন্দকারী কেউ নেই। এজন্যই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। এমনিভাবে আল্লাহর তুলনায় বেশি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্নও কেউ নেই। এজন্যই প্রকাশ্য এবং গোপনীয় সকল প্রকার অশ্লীলতাকে তিনি হারাম ঘোষণা করেছেন।" সহিহ মুসলিম।
নিশ্চয় সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সুন্দরভাবে প্রশংসা করা ভালবাসেন। এবং তিনি তাঁর আনুগত্য, উপাসনা এবং স্মরণের মাধ্যমে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার বিষয়টিকেও ভালবাসেন। তাই মুসলিম ব্যক্তির একটি উত্তম কাজ হলো এই যে, সে যেন তার পালনকর্তার অধিকতর সুন্দরভাবে সুন্দর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কর্মে রত থাকে।]

কোন মন্তব্য নেই