আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম এর তাফসির।।



أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম

শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা: অর্থ, গুরুত্ব ও জীবনে প্রয়োগ


🎬 ভূমিকা: একটি অদৃশ্য শত্রু

মানুষের জীবনে এমন একজন শত্রু আছে, যাকে আমরা চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু সে আমাদের দেখতে পায়।

সে হলো শয়তান।

আমাদের ভালো কাজ থেকে বিরত রাখা, ইবাদতে অলস করে দেওয়া, মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা, রাগের সময় উত্তেজিত করা এবং কখনো কখনো পাপকে সুন্দর করে দেখানো, এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণার অংশ।

কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের অসহায় করে রাখেননি।

এই অদৃশ্য শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ আমাদের একটি শক্তিশালী আমল শিখিয়েছেন।

তা হলো:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।

অর্থ:

“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”

এই কয়েকটি শব্দ শুধু মুখে উচ্চারণ করার বিষয় নয়। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা, শয়তানের বিরুদ্ধে সতর্কতা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্যের আবেদন।

আজ আমরা জানব, এই বাক্যের অর্থ কী, এর গুরুত্ব কী এবং আমাদের জীবনের কোন কোন পরিস্থিতিতে এটি পাঠ করা উচিত।


📖 প্রথম পর্ব: “আউযুবিল্লাহ” আসলে কী?

“আউযুবিল্লাহ” আরবি শব্দ।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাকে এক কথায় তাআউউয বলা হয়।

যখন একজন মুমিন বলে,

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তখন সে মূলত স্বীকার করে যে, শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তার নিজের শক্তিই যথেষ্ট নয়।

তার প্রয়োজন আল্লাহর সাহায্য।

শয়তান মানুষকে দেখে, কিন্তু মানুষ সাধারণত শয়তানকে দেখতে পায় না। তাই এই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলায় আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আউযুবিল্লাহ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চায়।


🌿 দ্বিতীয় পর্ব: আউযুবিল্লাহ পাঠের উপকারিতা

আউযুবিল্লাহ পাঠের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় লাভ করা।

তাফসিরকারগণ উল্লেখ করেছেন, বেশি পরিমাণে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে মানুষকে মন্দ ও নিন্দনীয় কথা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে সচেতন করে।

আমাদের মুখ দিয়ে আমরা যেমন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করি, তেমনি এই মুখ দিয়েই কখনো কখনো মন্দ, অশ্লীল বা অন্যায় কথা বের হয়ে যেতে পারে।

তাই একজন মুমিনের উচিত নিজের জিহ্বা ও অন্তরকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করা এবং শয়তানের প্ররোচনা অনুভব করলে দ্রুত আল্লাহর আশ্রয় নেওয়া।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ করাই যথেষ্ট নয়।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার পাশাপাশি শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাস্তবভাবেও নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।


📖 তৃতীয় পর্ব: কুরআন তিলাওয়াতের আগে

এখন প্রশ্ন হলো, কখন আউযুবিল্লাহ পাঠ করা উচিত?

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো কুরআন তিলাওয়াতের আগে।

মহান আল্লাহ বলেন:

فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

অর্থ:

“যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।”

সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯৮।

কুরআন তিলাওয়াত একটি মহান ইবাদত।

শয়তান চায় মানুষ যেন কুরআন থেকে দূরে থাকে, তিলাওয়াতে মনোযোগ হারায় এবং কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করে।

তাই কুরআন পড়ার আগে আমরা বলি:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

অর্থাৎ:

“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”

এটি শুধু একটি অভ্যাসগত বাক্য নয়।

এর সঙ্গে অন্তরে এই সংকল্পও থাকা উচিত:

“হে আল্লাহ, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাকে রক্ষা করুন, যাতে আমি আপনার কালাম মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিলাওয়াত করতে পারি।”


🕌 চতুর্থ পর্ব: সালাতে শয়তানের ওয়াসওয়াসা হলে

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হলো সালাতের সময়।

কখনো কখনো মানুষ নামাজে দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়তে গিয়ে হঠাৎ ভুলে যায় কী পড়ছিল।

কখনো অন্য চিন্তা মাথায় আসে।

কখনো মনে হয়, শয়তান যেন ইবাদতের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করছে।

উসমান ইবনু আবুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন সমস্যার কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, শয়তান তার এবং তার সালাত ও কিরাআতের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাকে কিরাআতে বিভ্রান্ত করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন, এটি এমন এক শয়তান যার নাম খিনযাব

তিনি নির্দেশ দিলেন, যখন সে এই সমস্যা অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে তার থেকে আশ্রয় চাইবে এবং বাম দিকে তিনবার হালকা থুথু বা তাফাল করবে।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি তা করার পর আল্লাহ তাআলা তার থেকে সেই শয়তানকে দূর করে দেন।

সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২০৩।

এখানে “থুথু ফেলা” বলতে মুখভর্তি থুথু ফেলা বোঝানো হয় না।

হাদিসে ব্যবহৃত শব্দের ব্যাখ্যায় এটি অত্যন্ত হালকা, শুকনোভাবে মুখ দিয়ে সামান্য বাতাস বা লালা ছিটানোর মতো আমল হিসেবে বোঝানো হয়েছে।

তবে মসজিদের পবিত্রতা ও অন্য মুসল্লিদের প্রতি সম্মান অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।

মসজিদে এমনভাবে কিছু করা যাবে না যাতে কার্পেট বা অন্য মুসল্লি অপবিত্র বা বিরক্ত হন।


😡 পঞ্চম পর্ব: রাগের সময় আউযুবিল্লাহ

এবার আসি এমন একটি পরিস্থিতিতে, যা আমাদের প্রায় সবার জীবনেই আসে।

রাগ।

রাগের সময় মানুষ অনেক কথা বলে ফেলে, যেগুলো পরে আফসোসের কারণ হয়।

কখনো গালি দেয়।

কখনো সম্পর্ক নষ্ট করে।

কখনো এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, যা পরে আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগের সময় আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন।

সুলাইমান ইবনু সুরাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার দুই ব্যক্তি পরস্পর গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং রাগে তার শিরা ফুলে উঠেছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ

অর্থ:

“আমি এমন একটি বাক্য জানি, সে যদি তা বলে, তাহলে তার যে অবস্থা হয়েছে তা দূর হয়ে যাবে।”

তিনি বললেন:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

অর্থাৎ:

“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”

বুখারি ও মুসলিমে এই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

তাই যখন রাগ উঠবে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে থামুন।

আল্লাহকে স্মরণ করুন।

বলুন:

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।

হয়তো এই ছোট্ট আমলটিই আপনাকে এমন একটি কথা বলা থেকে রক্ষা করবে, যার জন্য পরে সারাজীবন আফসোস করতে হতে পারে।


🌙 ষষ্ঠ পর্ব: খারাপ স্বপ্ন দেখলে

মানুষ ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বপ্ন দেখে।

কিছু স্বপ্ন আনন্দদায়ক।

আবার কিছু স্বপ্ন ভয়ংকর বা অস্বস্তিকর হতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে কিছু আমল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

যদি তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে তার বাম দিকে তিনবার হালকা থুথু ফেলবে, তিনবার আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে এবং যে পাশে শুয়েছিল তা পরিবর্তন করবে।

সহিহ মুসলিম।

অর্থাৎ, খারাপ স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে যাওয়ার পরিবর্তে একজন মুমিন আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে।

বলবে:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তারপর পাশ পরিবর্তন করে শুয়ে পড়বে।

এভাবে একজন মুমিন বুঝিয়ে দেয় যে, ভয়ের মুহূর্তেও তার ভরসা একমাত্র আল্লাহর ওপর।


🧠 সপ্তম পর্ব: মনের মধ্যে শয়তানের কুমন্ত্রণা এলে

শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি হলো ওয়াসওয়াসা, অর্থাৎ কুমন্ত্রণা।

হঠাৎ কোনো খারাপ চিন্তা মাথায় আসতে পারে।

কোনো পাপের দিকে মন আকৃষ্ট হতে পারে।

কাউকে অন্যায়ভাবে ঘৃণা করার চিন্তা আসতে পারে।

ইবাদত নিয়ে সন্দেহ বা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

এই সময় মুমিনের করণীয় কী?

মহান আল্লাহ বলেন:

إِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ

অর্থ:

“শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”

সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ২০০।

আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন:

اِنَّ الَّذِيْنَ اتَّقَوْا اِذَا مَسَّهُمْ طٰٓئِفٌ مِّنَ الشَّيْطٰنِ تَذَكَّرُوْا فَاِذَا هُمْ مُّبْصِرُوْنَ

অর্থ:

“নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদেরকে যখন শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। ফলে তারা তখন সঠিক পথ দেখতে পায়।”

সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ২০১।

কী সুন্দর শিক্ষা!

মুমিনের মনে কুমন্ত্রণা আসতেই পারে।

কিন্তু সে কুমন্ত্রণার অনুসরণ করবে না।

সে সতর্ক হবে।

আল্লাহকে স্মরণ করবে।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে।

এবং সঠিক পথে ফিরে আসার চেষ্টা করবে।


🕊️ অষ্টম পর্ব: শুধু উচ্চারণ নয়, অন্তরের বিশ্বাস

এখন একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।

“আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম” শুধু মুখের কয়েকটি শব্দ নয়।

এর মধ্যে রয়েছে একটি গভীর বিশ্বাস।

যখন আমরা বলি:

أَعُوذُ بِاللَّهِ

তখন আমরা বলছি:

“আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিচ্ছি।”

আর যখন বলি:

مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

তখন আমরা বলছি:

“আমি বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।”

তাই এই বাক্য উচ্চারণের সময় আমাদের অন্তরেও সেই অর্থের উপস্থিতি থাকা উচিত।

শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে হলে শুধু দোয়া নয়, পাপের পথ থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে হবে।


📌 নবম পর্ব: পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এক নজরে

চলুন, পুরো আলোচনাটি সংক্ষেপে মনে রাখি।

১. কুরআন তিলাওয়াতের আগে

আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে।

২. সালাতে শয়তানের ওয়াসওয়াসা হলে

আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে এবং হাদিসে বর্ণিত আমল করতে হবে।

৩. রাগের সময়

রাগের মুহূর্তে আউযুবিল্লাহ পাঠ করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে।

৪. খারাপ স্বপ্ন দেখলে

আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতে হবে এবং হাদিসে বর্ণিত অন্যান্য আমল করতে হবে।

৫. মনে শয়তানের কুমন্ত্রণা এলে

সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।


❤️ উপসংহার: মুমিনের নিরাপদ আশ্রয়

আমাদের জীবন নানা পরীক্ষায় পূর্ণ।

কখনো আমরা রাগ করি।

কখনো দুর্বল হয়ে পড়ি।

কখনো মনে খারাপ চিন্তা আসে।

কখনো ইবাদতের মধ্যে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি।

আর এসব মুহূর্তে শয়তান আমাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

কিন্তু একজন মুমিন জানে, সে একা নয়।

তার রব আছেন।

তার কাছে ফিরে যাওয়ার একটি দরজা সবসময় খোলা।

সেই আশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো:

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।

“আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”

তাই আসুন, আমরা শুধু অভ্যাসবশত এই বাক্য উচ্চারণ না করি।

বরং এর অর্থ বুঝি।

এর ওপর বিশ্বাস রাখি।

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকি।

এবং প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে যাই।

আল্লাহ আমাদের অন্তরকে পবিত্র রাখুন।

আমাদের জিহ্বাকে মন্দ কথা থেকে হেফাজত করুন।

আমাদের ইবাদতকে কবুল করুন।

এবং শয়তানের সব ধরনের প্ররোচনা, কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে আমাদের হেফাজত করুন।

آمِين يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।




কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.