স্ত্রী কে ক্ষমা করতে শিখুন!
স্ত্রীকে ক্ষমা করতে শিখুন:
একটি আদর্শিক ভালোবাসার গল্প।
স্বামী বাজার থেকে স্ত্রীকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু নম্বরটি 'ওয়েটিং' ছিল। বাসায় ফিরে দরজার ওপাশ থেকে স্ত্রীকে সালাম দিয়ে ঢুকলেন স্বামী।
স্বামী: কেমন আছো?
স্ত্রী: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।
স্বামী: তোমাকে বাজারে থাকাকালীন ফোন করেছিলাম, কিন্তু নম্বর ওয়েটিং ছিল। কার সাথে কথা বলছিলে?
স্ত্রী: আমার এক বান্ধবীর সাথে।
স্বামী শান্তভাবে স্ত্রীর কাছে গিয়ে বসলেন। তারপর নরম স্বরে বললেন:
"আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সর্বদা সত্য বলার আদেশ করেছেন, এমনকি যদি তাতে জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বান্দা যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন সেই মিথ্যার দুর্গন্ধে রহমতের ফেরেশতারা এক মাইল দূরে চলে যায়। আর প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেন, আমার উম্মত সব হতে পারে, কিন্তু কখনো মিথ্যাবাদী হতে পারে না।"
স্ত্রীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে সত্যিটা স্বীকার করল— সে আসলে তার এক পুরোনো বন্ধুর সাথে কথা বলছিল।
স্বামী রাগ না করে বললেন, "আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে হালাল করেছেন। আর পরপুরুষের সাথে এমন আলাপচারিতা ইসলামে হারাম। তুমি কি জানো জান্নাত কোথায়?"
স্ত্রী মাথা নিচু করে বলল, "না।"
স্বামী বললেন: রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অংশ (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী অংশের (লজ্জাস্থান) হেফাজত করবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।
এরপর স্বামী জায়নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামাজ শেষে দুই হাত তুলে স্ত্রীর জন্য অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করলেন:
"ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি হযরত ওয়াহশী (রাঃ) এবং হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর মতো কঠিন হৃদয়ের মানুষকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দিতে পারো, তবে আমার স্ত্রীকেও হেদায়েত দান করো। তাকে নেককার বানিয়ে দাও এবং আমাদের ঘরে নেক সন্তান দান করো।"
স্বামীর এই মোনাজাত শুনে স্ত্রীর অন্তর কেঁপে উঠল। সে ভাবল— "আমি যার মোহে পড়েছি, সে তো এই মানুষটার জুতো টানার যোগ্যও নয়! সব জেনেও তিনি আমাকে শাসন না করে ভালোবেসে আল্লাহর কাছে আমার জন্য কাঁদছেন।"
সেই রাতেই স্ত্রী অনুতপ্ত হয়ে তওবা করল এবং স্বামীর পায়ে ধরে ক্ষমা চাইল। স্বামী তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, "আমি জানি তুমি অবুঝ ছিলে, তাই ভুল করে ফেলেছ। আল্লাহ তোমাকে হেফাযত করুন।"
স্বামী তার স্ত্রীকে বুকে টেনে নিয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন।
শিক্ষা: শাসন নয়, বরং ভালোবাসা এবং সঠিক দ্বীনি শিক্ষা একটি সংসারকে জান্নাতি বাগানে পরিণত করতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ক্ষমার মানসিকতা থাকলে শয়তান কখনো সেখানে জায়গা পায় না।


কোন মন্তব্য নেই