বিবেক/নফস বিষয়ক আয়াত
বিবেক/নফস বিষয়ক আয়াত
একবিংশতম প্রশ্ন: নফস কি একটি নাকি তিনটি? কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفۡسُ ٱلۡمُطۡمَئِنَّةُ
হে প্রশান্ত আত্মা! [সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭]
وَلَآ أُقۡسِمُ بِٱلنَّفۡسِ ٱللَّوَّامَةِ
আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার! (সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২)
إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓء٢
নিশ্চয় নাফস মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫২)
তাহলে নফস কি মুতমাইন্না, লাওয়ামাহ ও আম্মারাহ তিন রকমের?
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা একই সুরাতে সাতবার কসম খেয়ে বলেছেন
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্বাকে পরিশুদ্ধ করেছে।وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
এবং সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্বাকে কলূশিত করেছে । [সুরা শামস ৯-১০]মানুষের জীবনের দুটি বড় শত্রু রয়েছে,
যথাঃ-
১/ নাফস
২/ শয়তান।
এই নফস ও শয়তান দুটোই প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে নানান গুনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। নফস ভিতর থেকে উদ্বুদ্ধ করে আর শয়তান সেটিকে আমাদের সামনে আকর্ষণীয় করে তুলে তাতে লিপ্ত করায়। নফস ও শয়তান দুটোই আমাদের শত্রু। তবে নফস শয়তানের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর শত্রু।
কেন ভয়ঙ্কর জানেন:
কারণ, এই নফসই শয়তানকে শয়তান বানিয়েছে। শয়তানের আগে তো আর কোন শয়তান ছিল না। এই নফসই শয়তানকে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পরিণামে সে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়েছে। কাজেই আমাদের এই নাফসের তাজকিয়া দরকার।
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আল্লাহর রাসুল (স) কে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি দায়িত্ব ছিল "মানুষের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করা "
কাজেই আমরা যদি নিজেদের সফলকাম করতে চাই, ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে চাই তাহলে আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
*আর নফসের একটা বৈশিস্ট হচ্ছে, সে সব সময় খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে । কিন্তু ভালো কাজের দিকে আহবান করবে না।
কুরআন মজীদে মানুষের নফসের তিনটি রূপ উল্লেখ করা হয়েছে। যথা:-
#নফসে আম্মারা।
#নফসে ‘লাউয়ামাহ।
#নফসে মুত্মাইন্নাহা।
১) নফসে আম্মারার কাজ হলো মানুষকে মন্দ কাজে প্ররোচিত করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ. নিশ্চয়ই নফস (সবাইকেই) মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, একমাত্র ওই ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যার প্রতি দয়া করেন, কেবল সে-ই নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
সুবাহান'আল্লাহ! আমরা একবার আমাদের কথা চিন্তা করি ভাই । যেখানে আল্লাহর নবী (আ) এই কথা বলছেন, যে তিনি তাঁর নফস কে পবিত্র মনে করেন না । সেখানে আমাদের অবস্থা কি?
আমাদের হালত তো এই আমরা আমাদের নসকে পবিত্র করার চিন্তাও করি না।
আমাদের ভাইদের মধ্যে মাশা'আল্লাহ, অন্যান্য ব্যাপারে পড়ার আগ্রহ আছে। কিন্তু যখন তাযকিয়ার ব্যাপারে বলা হয় । তখন আমাদের আলসেমি চলে আসে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক, আমিন । অথচ উচিত ছিলো আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
২) নফসে ‘লাউয়ামাহ ভুল বা অন্যায় কাজ করলে অথবা খারাপ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করলে কিংবা খারাপ নিয়ত রাখলে লজ্জিত হয় এবং সেজন্য মানুষকে তিরস্কার ও ভৎর্সনা করে।
*আধুনিক পরিভাষায় একেই আমরা বিবেক বলে থাকি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:-
৩) নফসে মুত্মাইন্নাহা হল মানুষ সঠিক পথে চললে এবং ভুল ও অন্যায়ের পথ পরিত্যাগ করলে তৃপ্তি ও প্রশান্তি অনুভব করে।
আল-ফাজর,:আয়াত: ২৭,
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আল্লাহর রাসুল (স) কে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি দায়িত্ব ছিল "মানুষের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করা "
কাজেই আমরা যদি নিজেদের সফলকাম করতে চাই, ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে চাই তাহলে আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
*আর নফসের একটা বৈশিস্ট হচ্ছে, সে সব সময় খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে । কিন্তু ভালো কাজের দিকে আহবান করবে না।
কুরআন মজীদে মানুষের নফসের তিনটি রূপ উল্লেখ করা হয়েছে। যথা:-
#নফসে আম্মারা।
#নফসে ‘লাউয়ামাহ।
#নফসে মুত্মাইন্নাহা।
১) নফসে আম্মারার কাজ হলো মানুষকে মন্দ কাজে প্ররোচিত করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ. নিশ্চয়ই নফস (সবাইকেই) মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, একমাত্র ওই ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যার প্রতি দয়া করেন, কেবল সে-ই নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
সুবাহান'আল্লাহ!
আমাদের হালত তো এই আমরা আমাদের নসকে পবিত্র করার চিন্তাও করি না।
আমাদের ভাইদের মধ্যে মাশা'আল্লাহ, অন্যান্য ব্যাপারে পড়ার আগ্রহ আছে। কিন্তু যখন তাযকিয়ার ব্যাপারে বলা হয় । তখন আমাদের আলসেমি চলে আসে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক, আমিন । অথচ উচিত ছিলো আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
২) নফসে ‘লাউয়ামাহ ভুল বা অন্যায় কাজ করলে অথবা খারাপ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করলে কিংবা খারাপ নিয়ত রাখলে লজ্জিত হয় এবং সেজন্য মানুষকে তিরস্কার ও ভৎর্সনা করে।
*আধুনিক পরিভাষায় একেই আমরা বিবেক বলে থাকি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:-
وَ لَاۤ اُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِؕ
আর না, আমি শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের।৩) নফসে মুত্মাইন্নাহা হল মানুষ সঠিক পথে চললে এবং ভুল ও অন্যায়ের পথ পরিত্যাগ করলে তৃপ্তি ও প্রশান্তি অনুভব করে।
আল-ফাজর,:আয়াত: ২৭,
یٰۤاَیَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُۗۖ
হে প্রশান্ত আত্মা!
ارْجِعِیْۤ اِلٰى رَبِّكِ رَاضِیَةً مَّرْضِیَّةًۚ
চলো তোমার রবের দিকে, এমন অবস্থায় যে তুমি (নিজের শুভ পরিণতিতে) সন্তুষ্ট (এবং তোমরা রবের) প্রিয়পাত্র।فَادْخُلِیْ فِیْ عِبٰدِیْۙ
শামিল হয়ে যাও আমার (নেক) বান্দাদের মধ্যে।ادْخُلِیْ جَنَّتِیْ۠
এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।


কোন মন্তব্য নেই