রাসূল (সা.) কি কোনো আয়াত গোপন করেছিলেন?

 রাসূল (সা.) কি কোনো আয়াত গোপন করেছিলেন?


আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যদি ওয়াহীর কোন অংশ গোপনকারী হতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি এ আয়াত গোপন করতেন–

وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَوَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ, وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ ,فَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَا كَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْإِ ذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا ۚ

 ۖ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যখন তুমি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলে, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমি-ও অনুগ্রহ করেছিলে:

‘তুমি তোমার স্ত্রীকে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো।’

আর তুমি তোমার মনে এমন কিছু গোপন করছিলে, যা আল্লাহ প্রকাশ করবেন।

তুমি মানুষকে ভয় করছিলে, অথচ আল্লাহই বেশি হকদার যে তুমি তাঁকে ভয় করবে।

অতঃপর যখন যায়েদ তার স্ত্রীকে তালাক দিল, তখন আমি তাকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিলাম”   (সূরা আহ্‌যাব ৩৭)

 

সহজভাবে বলতে গেলে, এই কথাটির মাধ্যমে মূলত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমানতদারিতা এবং আল-কুরআনের সত্যতা বোঝানো হয়েছে। এখানে আয়েশা (রা.) বোঝাতে চেয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজের মনের কোনো ইচ্ছা বা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় গোপন করার বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকলে এই আয়াতটি গোপন করতেন, কারণ এতে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ আছে।


বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য নিচের পয়েন্টগুলো খেয়াল করুন:


১. প্রেক্ষাপট (ঘটনাটি কী ছিল?)

যায়ের ইবনে হারিসা (রা.) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পালক পুত্র। সে সময় আরবে পালক পুত্রকে নিজের জন্মদাতা সন্তানের মতো মনে করা হতো। জায়েদ (রা.)-এর সাথে উম্মুল মুমিনীন জয়নব বিনতে জাহশ (রা.)-এর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাদের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা হচ্ছিল না।


আল্লাহ তা‘আলা ওহীর মাধ্যমে রাসূল (সা.)-কে আগেই জানিয়েছিলেন যে, জায়েদ ও জয়নবের বিচ্ছেদ হবে এবং পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে জয়নব (রা.)-এর সাথে রাসূল (সা.)-এর বিয়ে হবে। এটি মূলত একটি বড় সামাজিক সংস্কারের অংশ ছিল—যাতে ভবিষ্যতে মুমিনদের জন্য পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকে। আয়াতটির শেষে আল্লাহ তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিয়ে ছিল একটি ঐশী নির্দেশ, যেন এ বিষয়ে মুমিনদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে।


২. কেন বলা হয়েছে 

"তিনি যদি গোপন করতেন তবে এটিই করতেন"?

রাসূল (সা.) জানতেন যে, লোকমুখে এ নিয়ে নানা কথা হতে পারে। মানুষ বলতে পারে— "তিনি নিজের ছেলের (পালক পুত্র) স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন।" এই দ্বিধা বা সংকোচবোধ থেকেই তিনি জায়েদ (রা.)-কে বলেছিলেন, "তুমি তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা আহযাব: ৩৭)।


আল্লাহ তা‘আলা তখন এই আয়াত নাজিল করে মৃদু শাসন করে বলেন যে, আপনি মানুষের সমালোচনাকে ভয় পাচ্ছিলেন অথচ আল্লাহকেই বেশি ভয় করা উচিত ছিল।


৩. মূল শিক্ষা


আয়েশা (রা.)-এর কথার মূল মর্মার্থ হলো:

সততা: যদি কুরআন রাসূল (সা.)-এর নিজের বানানো কোনো কিতাব হতো, তবে তিনি এমন আয়াত রাখতেন না যেখানে তাঁকে সরাসরি সংশোধন বা শাসন করা হয়েছে।


আমানত: তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা পেয়েছেন, তা হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।


দলিল: আয়েশা (রা.) মূলত মুনাফিক ও কাফিরদের অপপ্রচারের বিপরীতে রাসূল (সা.)-এর পবিত্র চরিত্রের এই অকাট্য প্রমাণ পেশ করেছিলেন।

(সূত্র: সহীহ বুখারী: ৪৫৩১, ৭৪২০ এবং সহীহ মুসলিম: ১৭৭)


সারকথা: আয়াতটি প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ওহীর কোনো কিছু লুকাতেন না। যা সত্য এবং যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, তিনি তা নির্ভয়ে প্রচার করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.