কর্মী গঠনে দায়িত্বশীলদের করণীয় /সাংগঠন

যেকোনো কাজে কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। কর্মী ছাড়া কোনো কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একজন দক্ষ কর্মী দ্বারা দক্ষ প্রতিষ্ঠান তৈরি সম্ভব। পৃথিবীর সকল সফল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এগুলোর পেছনে দক্ষ কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটি সফল বিপ্লবের জন্য দক্ষ, প্রশিক্ষিত, গতিশীল ও আদর্শিক কর্মীর প্রয়োজন। সাধারণত কর্মী বলতে যারা কাজ করে তাদেরকে কর্মী বলা হয়। ইংরেজি ডিকশনারিতে কর্মী বলতে : A person or thing that works, a person who is actively involved in a particular activity.

আনুগত্য : ইসলামী আন্দোলনে উর্ধ্বতনদের আনুগত্য করা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে সামান্যতম শিথিলতা বরদাশতযোগ্য নয়। ব্যক্তিগত সকল কাজও মূল নেতৃত্বের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। যত কষ্টই হোক সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করলে সে আর যাই হোক ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীল হওয়ার ন্যূন্যতম যোগ্যতা রাখে না।

দাফতরিক শৃঙ্খলা : সংগঠনের দফতর সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। এ যোগ্যতার অভাবে অনেক সময় সুষ্ঠুভাবে সংগঠন পরিচালনা করাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দায়িত্বশীলকে জিম্মি হয়ে পড়তে হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান না থাকলে সচ্ছভাবে অনেক কোরবানি করা সত্ত্বেও অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রত্যাশিত অনেক বদনামের ভাগী হতে হয় দায়িত্বশীলকে। তাকে দাফতরিক গোছগাছ ও পরিপাটির প্রতি কোনক্রমেই উদাসীন হলে চলবে না। এতে সংগঠনের ভাবমর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়।

ঙ. দায়িত্বশীলের কাজের গতিশীলতা : দায়িত্বশীলের প্রতিটি কাজে গতিশীলতা থাকা অত্যাবশ্যকীয়। ঢিলেঢালা ও অলসতা ‘দায়িত্বশীল’ শব্দটির পরিপন্থী। দায়িত্বশীলের যদি ‘আঠারো মাসে বছর’ হয় তাহলে কর্মীদের হবে কত মাসে? সাংগঠনিক কাজ ছাড়াও ব্যক্তিগত সকল কাজের ক্ষেত্রেও গতিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তবে অতি তাড়াহুড়া বা অযথা তাড়াহুড়া করাও কাম্য নয়। সময় পাইনি তাই কাজটি করতে পারিনি এমন কথা খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়। অলসতায় সময় না কাটিয়ে কিংবা অন্য আর পাঁচটি কাজ মনোযোগ দিয়ে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে এ কাজটিও করতে পারা দক্ষতার পরিচায়ক। সর্বদাই নিজেকে সকল কাজের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। হজরত ওমর রা:-এর অন্যতম মৌলিক গুণ এটা ছিল, তিনি সর্বদা যে কোন কজের জন্য প্রস্তুত থাকতেন। হিজতের রাতে হজরত আবু বকর রা:-এর দরজায় এসে রাসূল সা: দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি এক মুহূর্তও। ডাক দিতেই দরজাটি খুলে দিলেন তিনি। হিজরতের এ দীর্ঘ সফরের যাবতীয় প্রস্তুতি তিনি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন পূর্বেই। পথনির্দেশক, পথের সীমানা, কোন পথে যাবেন, পরে খাবার কে পৌঁছে দেবে? কিভাবে দেবে ইত্যাদি। রাসূল সা:-এর সামান্যতম ইশারা পেয়ে তিনি এসব ঠিক করে রেখেছিলেন অনেক পূর্বেই। তাইতো তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা, এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান।

কোন মন্তব্য নেই

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.